বাংলাদেশের ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড
বাংলাদেশের ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করার জন্য সঠিক নিশ নির্বাচন করতে হবে। অনেকে জানে না, ড্রপ শিপিং বিজনেস কি, তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি লেখা হবে।আজকের পোস্টটি শুধু তাদের উদ্দেশ্যে যারা বাংলাদেশের ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।
সুতরাং আপনিও যদি ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করার পরিকল্পনা করেন তাহলে আমাদের এই পোস্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাথে পড়ুন। ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করার জন্য আমাদের আজকের আয়োজন দেখে নিন।
পেজ সূচিপত্র: বাংলাদেশের ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন
- সঠিক পণ্য নির্বাচন করুন
- ড্রপ শিপিং কি
- ড্রপশিপিং কাদের জন্য
- বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খোঁজা
- প্রডাক্ট এর ওজন বা সাইজ
- অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি
- পেমেন্ট নেওয়ার ব্যবস্থা
- কুরিয়ার বা ডেলিভারি সিস্টেম নির্ধারণ
- প্রচার করার ব্যবস্থা
- কাস্টমার সার্ভিস ও রিটার্ন পলিসি
- ব্যবসা বড় করার চ্যালেঞ্জ
- শেষ কথা
সঠিক পণ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সফলতা অর্জন
ব্যবসা কি তার মূল চাবিকাঠি হল সঠিক পণ্য নির্বাচন, আপনি যদি সঠিক পণ্য নির্বাচন করতে পারেন তাহলে সাফল্য আপনার কাছেই। তাই যে কোন বিজনেস শুরু করার আগেই আপনি কোন পণ্য নিয়ে কাজ করবেন তা নিয়ে আপনি অনেক চিন্তা ভাবনা করবেন কারণ এই ভাবনায় আপনার সাফল্যের মূল কারণ। এমন একটা পণ্য বেছে নিন যার চাহিদা প্রচুর, কিন্তু বাজারে সহজে পাওয়া যায় না। মানুষ যে জিনিস সহজে পায় না সেটা অনলাইনে খোঁজার চেষ্টা করে, তাই আপনি অফলাইনে সহজে পাওয়া যায় না এমন পণ্য নিয়েই আপনাকে বিজনেস শুরু করতে হবে যাতে আপনি অনলাইনে সহজে তা কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে পারেন।
পণ্য নির্বাচন করবেন যাতে সেটা হালকা ও সহজে পাওয়া যায়, সাইটটা ছোট হলে তো আরো ভালো কারণ অনলাইনে প্রোডাক্টগুলো হালকা ও ছোট হলে তা অনেক ভালো হয়।আপনি যে পণ্যটা নির্বাচন করেছেন সেটা মার্কেটে বিক্রি হলে ভালো লাভ হবে সেটা দেখতে হবে। কারণ আপনি ড্রপশিপিং করছে শুধু লাভের আশায়। প্রত্যেক মানুষ বিজনেস বিজনেস করে কিছু ইনকাম করার জন্য অর্থাৎ লাভ করার জন্য। এজন্য আপনাকে সঠিক পণ্য নির্বাচন করে ব্যবসা শুরু করতে হবে।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম
ড্রপ শিপিং ব্যবসাটা আসলে কি
ড্রপ শিপিং হল এমন এক অনলাইন ব্যবসার মডেল যেখানে আপনাকে প্রোডাক্ট স্টক করে রাখতে হবে না, আপনার অতিরিক্ত মূলধন লাগবেনা, কম খরচে ঝুঁকে ছাড়াই এ ব্যবসা শুরু করা যায়। ড্রপ শিপিং ব্যবসা প্রক্রিয়াটা খুব সহজ, আপনি আপনার নিজের মত অনলাইনে ইস্টোরে প্রোডাক্ট লিস্ট করতে পারবেন যেখানে তো আপনি প্রোডাক্ট সেল করবেন এবং লাভের অংশগ্রহণ করবেন। এখানে শুধু ক্রেতারা আপনার ওয়েবসাইট অর্ডার করবে এবং আপনি সেই অর্ডারটি সরবরাহকারীর কাছে পাঠাবেন। আর সরবরাহকারী সরাসরি ক্রেতার কাছে অন্য পৌঁছে দিবে এবং কেতারা পেমেন্টটা করে দিবে।
উদাহরণস্বরূপ মনে করেন ক্রেতা একটা প্রডাক্ট অর্ডার করল আর সেটা আপনি সাপ্লায়ের কাছ থেকে কিনলেন বিনা পুঁজিতে। প্রডাক্ট এর দাম মনে করেন ৮০০ টাকা আর আপনি ক্রেতার কাছে বিক্রি করলেন ১২০০ টাকায়। ক্রেতার কাছে আপনি তা পৌঁছে দিলেন এবং 1200 টাকা আয় করলেন , সাপ্লায়ার কে ৮০০ টাকা দিলে এবং আপনার ৪০০ টাকা ৪০০ টাকা থাকলো। আর এই ৪০০ টাকায় হল আপনার লাভ। এখানে শুধু আপনাকে একটা ভালো সাপ্লায়ার আর একটা ভালো পণ্য নির্বাচন করলেই আপনি একটা স্মার্টফোনের মাধ্যমেই লাভ করতে সক্ষম হবেন। সুতরাং ড্রপ শিপিং ব্যবসাটা বেকারদের জন্য অনেক ভালো।
ড্রপ শিপিং বিজনেসটা কাদের জন্য ভালো
বাংলাদেশের ই-কমার্স দ্রুত বিকাশ লাভ করছে, আর এর মধ্যেই সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবসা হচ্ছে ড্রপ শিপিং। কম খরচে , পুঁজি ছাড়া, স্টক ছাড়া এবং বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট অনলাইনে থাকায় অনেক তরুণ ও বেকার উদ্যোক্তা এ মডেল বেছে নিচ্ছেন। ড্রপ শিপিং ব্যবসাটা নতুন জেনারেশন দের জন্য। নতুন জেনারেশন স্মার্টফোন অনেক ব্যবহার করে যার ফলে খরচ হয় কিন্তু বাবা-মা সে খরচ বহন করতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে তাই তাদের জন্য ড্রপ শিপিং বিজনেসটা অনেক ভালো ।
নিজের হাত খরচট নিজে করতে পারলে বাবা-মা অনেকটা বেঁচে যায়। ড্রপশিপিং বিজনেসটা হল নতুন তরুণদের জন্য, ঘরে বসে থাকা গৃহিনীদের জন্য, নতুন জেনারেশনের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য । এক কথায় বেকারদের জন্য ড্রপ শিপিং বিজনেসটা। কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে স্মার্টফোনের মাধ্যমে যদি কিছু ইনকাম করা যায় তাহলে ক্ষতি কি।বেকার তরুনেরা যদি কোন পুঁজি ছাড়া, স্টক ছাড়া এ বিজনেস করতে পারে তাহলে আমি মনে করি তাদের জন্য অনেক লাভজনক।
অন্তত বাবা-মায়ের অনেকটা সাপোর্ট হবে। তাই তরুণ উদ্যোক্তা ও বেকার ছাত্র-ছাত্রী, গৃহিণী এ বিজনেসটা করতে পারেন।
বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার বা সরবরাহকারী খোঁজা
বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার ছাড়া এ ব্যবসা করা অনেক কঠিন। কারন আপনার প্রোডাক্টের মানে আর ডেলিভারি সরবরাহকারীর উপর নির্ভর করে। সাপ্লায়ার যদি কোন কারনে আপনার প্রোডাক্ট ক্রেতার কাছে না পৌঁছায় তাহলে আপনার প্রোডাক্ট এর নাম খারাপ হবে এবং আপনার হতে আর কেউ প্রোডাক্ট নিতে ইচ্ছা পোষণ করবে না। আপনাকে এ প্লাটফর্মে আসার জন্য ভালো সাপ্লায়ার খুঁজতে হবে তারপর বিজনেস শুরু করতে হবে।যেগুলো যেগুলো নিয়ম মেনে চললে আপনি সহজে লাভবান হতে পারবেন। যেমন: ড্রপ শিপিং কি, কোন পণ্য নিয়ে ব্যবসা করবেন, কাদের জন্য এই ব্যবসা ইত্যাদি।
প্রথমত হলো লোকাল ড্রপ স্লিপিং প্ল্যাটফর্ম Dropshop এর মত প্লাটফর্ম থেকে রেডিও স্টক পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। এখানে শুধু আপনাকে একটা ভালো সাপ্লায়ার খুঁজে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারবেন দিয়ে আপনি মুনাফা গ্রহণ করতে পারবেন।
আরো পড়ুন: অনলাইনের মাধ্যমে ব্যাংকের একাউন্ট খোলার উপায়
দ্বিতীয়ত হোলসেল বা পাইকারি বাজার, চকবাজার ইসলামপুর বা ঢাকার অন্যান্য পাইকারি বাজারে ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তি করতে পারেন। তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিবেন এবং তাদের কাছে যে দামে আপনি নিবেন এবং ক্রেতার কাছে যে দামে বিক্রি করবেন তার মধ্যে যে লাভ হবে সেটা আপনি গ্রহণ করবেন এরকম একটা কথা বলে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
প্রোডাক্টের ওজন ও সাইজ নির্বাচন
ড্রপশিপিং বিজনেসটা অনলাইন প্লাটফর্ম তাই এ বিজনেসটা শুরু করার জন্য কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললে অধিক লাভবান হওয়া যায় তার মধ্যে পড়ে প্রোডাক্ট এর ওজন ও সাইজ। product এর ওজনটা যদি হালকা হয় তাহলে সাপ্লায়ার এবং ক্রেতার দুজনের জন্যই ভালো কারণ একজন সরবরাহকারী চাইবে হালকা প্রোডাক্ট হলে ভালো।কারণ তার বহন করার সহজ হবে এবং ক্রেতার কাছে পৌঁছানো আরো সহজ হবে। তাই প্রোডাক্টের ওজনটা হালকা ও সাইজটা ছোট হলে ড্রপ শিপিং বিজনেসের জন্য ভালো। অবশ্যই প্রোডাক্টটা ভালো হতে হবে।
যেমন মনে করেন আপনি একটা কসমেটিক প্রোডাক্ট যেমন মেস্তার কোন একটা প্রোডাক্ট অর্ডার করলেন আর সেটার ওজন হালকা এবং ছোট হলে সাপ্লাইয়ের জন্য অনেক ভালো হয়।কসমেটিক প্রোডাক্ট সাধারণত হালকা এবং ছোটই হয়। তাই এখানে সাপ্লায়ার এবং ক্রেতা দুজনে ই খুশি থাকবে। সরবরাহকারী পৌঁছে দিয়ে খুশি থাকবে এবং ক্রেতা হাতে পেয়ে খুশি হবে। এজন্য ড্রপ শিপিং ব্যবসার জন্য প্রোডাক্ট এর সাইজ টা হালকা ও ছোট হওয়া অনেক ভালো।
অনলাইনে ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম
পণ্য বিক্রি এবং অর্ডার নেওয়ার জন্য অনলাইনে একটি প্ল্যাটফর্ম বা ওয়েবসাইট তৈরি করা খুবই প্রয়োজন। এজন্য প্রথমে আপনাকে কে অনলাইন স্টোর তৈরি করতে হবে যেখানে আপনি ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নিজের ব্যান্ডের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। ড্রপ শিপিং ব্যবসার জন্য অনলাইন ওয়েবসাইট থাকা জরুরী কারণ আপনি এ প্লাটফর্মে এসে অর্ডার গ্রহণ করবেন এবং তা ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিবেন। এজন্য আমি মনে করি যারা ড্রপ শিপিং ব্যবসা করতে চান তাদের প্রত্যেকের অনলাইন স্টোর বা ওয়েবসাইট তৈরি করা প্রয়োজন।
অনলাইনে স্টোরে আবার ফ্রি প্ল্যাটফর্ম আছে যেখানে আপনি কোন খরচ ছাড়াই শুরু করতে চাইলে দারাজ এ নিজের ব্রান্ডের দোকান খুলে ড্রপ শিপিং করতে পারেন। এখানে শুধু আপনার অর্ডার নিতে হবে আর সঠিক টাইমে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে হবে তাহলে আপনার কাজ শেষ। ড্রপ শিপিং বিজনেস সহজ কিন্তু কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি সহজেই লাভবান হতে পারবেন। এজন্য এই দিক নির্দেশনা গুলো।
পেমেন্ট নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন
প্রত্যেক পণ্য বিক্রির পর ব্যবস্থা থাকে এখানেও তার বিকল্প নয়। বাংলাদেশের ই-কমার্স সফল হতে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধ সবচেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এজন্য আপনাকে অবশ্যই ক্যাশ অন ডেলিভারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে ক্রেতা পণ্য হাতে পেয়ে খুশি হয়ে আপনাকে টাকা পরিশোধ করতে পারে। ক্যাশ ওয়ান ডেলিভারি হলে ক্রেতা ও খুশি আর আপনি ও খুশি। অবশ্যই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ক্রেতা অর্ডার দেওয়ার পর কিসে খুশি হয়, ওই অনুযায়ী কাজ করলে আপনি তাড়াতাড়ি সফল হবেন। এক কথায় ক্রেতার মনের মতন হয়ে উঠতে হবে আপনাকে। পেমেন্টের জন্য বিকাশ নগদ এর মত পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকতে পারেন অথবা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য Pathao , Redx এর সাথে চুক্তি করতে পারেন।
আরো পড়ুন: অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ নিয়ম
যেটাতে আপনি খুব তাড়াতাড়ি ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে পারবে এবং প্রেমেন্ট নিতে পারবেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। আমার জানামতে কাস্টমার সব সময় ক্যাশ অন ডেলিভারি পছন্দ করে কারণ তারা পণ্য হাতে পেয়ে পরিশোধ করতে ভালোবাসে।
কুরিয়ার বা ডেলিভারি সিস্টেম নির্ধারণ
ড্রপ শিপিং ব্যবসার জন্য ডেলিভারি সিস্টেম টা থাকা অবশ্যই। কারণ এটা অনলাইন বিজনেস এজন্য এখানে ডেলিভারি সিস্টেম টা খুবই জরুরী। অনলাইনে অর্ডার করার পর সেটা ক্রেতার কাছে একজন ডেলিভারি ছাড়া পৌঁছানো অসম্ভব। ডেলিভারি সিস্টেমের জন্য আগে হতেই ভাবতে হবে কারণ এখানে কুরিয়ার সার্ভিসটা খুবই জরুরী। নির্ভরযোগ্য ডেলিভারির জন্য পাঠাও , রেডেক্স এদের সাথে চুক্তি করে রাখতে পারেন। এই ডিজিটাল যুগে মানুষ অনলাইনে ওপর অনেকটা নির্ভরশীল।
অনেক ব্যস্ততার কারণে মানুষ অনলাইনে যে কোন প্রোডাক্ট অর্ডার করতে পছন্দ করেন, তাই আমরা ড্রপ শিপিং এর মত ব্যবসার কথা চিন্তা করতে পারি। আর এজন্যই দরকার হয় আমাদের একজন ভালো ডেলিভারি ম্যান।এই যুগে কুরিয়ার সার্ভিস কে নির্ভরযোগ্য ডেলিমার জন্য পাঠাও, রেডক্স বিশ্বাসযোগ্য। সুতরাং ড্রপ শিপিং ব্যবসার জন্য ডেলিভারি সিস্টেম টা আগে হতেই নির্ধারণ করতে হবে।
প্রচার করার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন
ড্রপ শিপিং আজকাল এমন একটা বিজনেস এখানে আপনার অন্যটা যত অনলাইনে মানুষ জানবে তখন বেশি আপনার মত বিক্রি হবে। এজন্য আপনাকে কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে আপনার পণ্যটা প্রচার করার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে। যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন করে আপনার পণ্য টা প্রচার করতে পারেন। ফেসবুকে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনার পণ্যটা প্রচার করলে সহজেই মানুষের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে এবং তা জানবে।ড্রপ শিপিং এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মার্কেটিং। আপনার পণ্যটা কিভাবে প্রচার করবেন তা আপনার উপর নির্ভর করে।
এজন্য আপনাকে ফেসবুকে সহজেই প্রচার করতে পারবেন , ছোট ভিডিও করে tiktok এর মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল করতে পারেন, কনটেন্ট মার্কেটিং লিখে গুগল থেকে প্রচার করতে পারেন, google এডিএস যারা সরাসরি কিনতে চায় তাদের জন্য প্রচার করতে পারেন।
কাস্টমার সার্ভিস ও রিটার্ন পলিসি
যে কোন ব্যবসার জন্য কাস্টমার সার্ভিসটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এখানে অনলাইনে ব্যবসার ক্ষেত্রে কাস্টমার সার্ভিস এর কোন তুলনায় নাই কারণ অনলাইনে ব্যবসার ক্ষেত্রে কাস্টমার সার্ভিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন সমস্যা সমাধানে জন্য ক্রেতা যাতে আপনার সাথে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে এবং আপনি তাড়াতাড়ি ক্রেতার সমস্যার সমাধান করতে পারেন।ড্রপশিপিং ব্যবসায় কাস্টমার সার্ভিসটা থাকা জরুরি কারণ কাস্টমার খুশি না হলে পরের বার আপনার পণ্য ক্রয় করা হতে দূরে থাকবে। এছাড়াও পণ্য কোন প্রকার ত্রুটি থাকলে তা পরিবর্তনের জন্য একটি ব্যবস্থা উল্লেখ থাকবে।
কোন একটা পণ্য কাস্টমার ক্রয় করে সেটা না পেয়ে অন্যটা পেল, আপনাকে জানার পর আপনি সেটা পরিবর্তন করে দিলেন তাহলে এখানে কাস্টমার খুশি হবে এবং পরবর্তীতে আপনার পেজ হতে প্রোডাক্ট কিনতে আগ্রহ দেখাবে।বা কোন প্রোডাক্ট ছোট বড় হলে তারপরে পরিবর্তন করে দিলেন তাতে কাস্টমার খুশি হবে। এবং আপনার ব্যবসা দ্রুত সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
ব্যবসার বড় করার কিছু চ্যালেঞ্জ
ড্রপ শিপিং ব্যবসা যখন আস্তে আস্তে সেল বাড়বে তখন আপনাকে কিছু নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত করতে হবে যাতে করে আপনার ব্যবসাটা কিছুটা বড় হয়। যখন আপনার ব্যবসাটা প্রচার হবে এবং মনে হবে যে ব্যবস্থা বড় করলে কোন ক্ষতি হবে না তখন আপনি টিম তৈরি করে মার্কেটিং ভাগ করে এ ব্যবস্থাটাও পরিচালনা করতে পারবেন। একেক জন একেকটা পণ্য নিয়ে কাজ করলে আপনার টিম সহজে লাভবান হবে এবং তা দ্রুত প্রচার হবে। ড্রপ শিপিং ব্যবসা বড় করার কোন কঠিন কাজ নয়। সঠিক দিক নির্দেশনা থাকলে আপনি আপনার ব্যবসা বড় করতে সক্ষম হবেন।
বাংলাদেশের ড্রপ শিপিং সহজ হলেও কিছু কিছু চ্যালেঞ্জ তো আছেই। চ্যালেঞ্জগুলো সহজ ভাবে নিলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি লাইফে সফলতা অর্জন করতে পারবেন। যেমন: বিদেশ থেকে অর্ডার আনতে সময় বেশি লাগে, এখানে আপনাকে ধৈর্য রাখতে হবে।
আরো পড়ুন: গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে লাখ টাকা আয় করুন
আবার অনেক সাপ্লায়ার নির্ভরযোগ্য না এজন্য আপনাকে সঠিক সাপ্লায়ার খুঁজতে হবে। অনেক প্রতিযোগিতার ভিড়ে আপনাকে টিকে থাকতে হবে। নতুন নতুন ব্রান্ডে কাস্টমারের আস্থা পেতে সময় লাগবে এখানে অধৈর্য হলে হবে না। তাই সঠিক পরিকল্পনা ও মানসম্মত সার্ভিস দিলে এগুলো সহজেই মোকাবেলা করা যায়।
শেষ কথা: বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার গাইড
বাংলাদেশের ড্রপ শিপিং হলো সবচেয়ে কম খরচে ই-কমার্স ব্যবসা করার নতুন সুযোগ। এখানে শুধু কিছু নিয়মাবলী রয়েছে যেগুলো মেনে চললে আপনি অল্প সময়ে লাভজনক ব্যবসা তৈরি করতে পারবেন। শুধু দরকার সঠিক প্রোডাক্ট নির্বাচন, বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার আর ভালো মার্কেটিং প্রচার। এখানে পণ্য স্টক রাখার ঝামেলা, অতিরিক্ত বাড়তি খরচ।এক জায়গা হতে আর এক জায়গায় পাঠানোর মাধ্যমে এর ব্যবস্থা করা সম্ভব। আপনার হাতে থাকতে হবে শুধু একটা স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার।
তাহলেই আপনি এই ব্যবসা করতে পারবেন। আমার মতে আপনি যদি বেকার হন তাহলে আজই এই ড্রপ শিপিং ব্যবসা শুরু করেন। কারণ এই ব্যবসা করে আপনি সহজে বেকারত্বের মুক্তি পাবেন। যারা ঘরে বসে অবসর সময়ে কাজ করতে চান তারাও এই ড্রপ শিপিং ব্যবসা করতে পারেন আবার নতুন তরুণ উদ্যোক্তারা এই ব্যবসা করতে পারে শুধু দরকার সঠিক সময় আর কিছু দিক নির্দেশনা। যা আপনাকে সাফল্যতা অর্জনে সহযোগিতা করবে। সুতরাং আপনারা যারা অবসর সময়ে কিছু ইনকাম করতে চান তারা অবশ্যই ড্রপ শিপিং ব্যবসাটা করতে পারেন। আপনার জন্যই এ সময় সবচেয়ে উপযুক্ত।



গ্রোমার্কেটিং আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url