চীনের প্রোডাক্ট বাংলাদেশ আমদানি করার প্রক্রিয়া স্টেপ বাই স্টেপ স্ক্রিনশট সহ
আপনি কি জানেন বাংলাদেশে চীনের প্রোডাক্ট আমদানি করার প্রক্রিয়া সমূহ কি?
আজকের এই আর্টিকেলটি তাদের উদ্দেশ্যে যারা খুব তাড়াতাড়ি চীনের প্রোডাক্ট
বাংলাদেশ আমদানি করে একটি ব্যবসা করতে চাচ্ছেন। সুতরাং আপনি যদি একজন সফল
ব্যবসায়ী হতে চান তাহলে আপনি কিভাবে চীনের প্রোডাক্ট বাংলাদেশে আমদানি করার
প্রক্রিয়া সমূহ জানবেন তা নিয়ে আমাদের এই পোস্টটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে
পড়ুন। চীনের প্রোডাক্ট সম্পর্কে আমদানি করার ব্যাপারে আপনি অত্যন্ত মনোযোগ
সহকারে আর্টিকেল পড়ুন এবং বিস্তারিত জানুন। এই আর্টিকেলটি শুধু তাদের জন্য
যারা চীনের প্রোডাক্ট বাংলাদেশ আমদানি করে ব্যবসা করতে চান।
পেজ সূচিপত্র: চীনের প্রোডাক্ট বাংলাদেশে আমদানি করার প্রক্রিয়া স্টেপ বাই স্টেপ স্কিনশট সহ
- পণ্য গবেষণা ও বাছাই
- বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ
- প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত
- শিপিং এর ব্যবস্থা করা
- কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এর ব্যবস্থা
- এয়ারপোর্ট বা সি সাপোর্ট থেকে পণ্য সংগ্রহ
- চীন থেকে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ
- চীন থেকে পণ্য নিয়ে আসার বীমা খরচ
- স্থানীয় পরিবহন খরচ
- চীন থেকে পণ্য আমদানির জন্য বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খোঁজা
- পেমেন্ট প্রদান এবং চালান প্রক্রিয়া
- শেষ কথা
পণ্য গবেষণা ও বাছাই প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে বাইরের পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। তারমধ্যে চীনা পণ্যের চাহিদা বেশি
হওয়ায় চীন থেকে বাংলাদেশে আমদানি করে ব্যবসা করে অনেক লাভবান হওয়া যায়।
সর্বপ্রথম চীন থেকে পণ্য আমদানির জন্য আপনাকে পণ্য বাছাই করতে হবে যার চাহিদা
বাংলাদেশে রয়েছে। আপনি যে পণ্যটি আমদানি করতে চান, তা অবশ্যই বাজারে চাহিদা
এবং আপনার ব্যবসার ধারণা যায় হতে হবে। কেননা আমদানিকৃত পণ্য চাহিদা ভাল না
থাকলে আপনি লাভবান হতে পারবেন না।
এজন্য আপনাকে অনেক চিন্তা ভাবনা করে বাজারের অবস্থা যাচাই-বাছাই করে পণ্য
বাছাই করতে হবে। যাতে আপনি সঠিক পণ্য নির্বাচন করে লাভবান হতে পারেন। পন্যের
মান বৈচিত্র এবং গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী অন্যটি বাছাই করা আবশ্যক।
উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ কসমেটিক, ইলেকট্রনিক্স গৃহস্থালী সামগ্রী
এবং পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি। তাই বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা সম্পন্ন বাছাই
করতে হবে যাতে আপনি আপনার পণ্য সঠিকভাবে সেল করতে পারেন।
আরো পড়ুন: বিশ্ববাজারে টাকার রেট জানুন
বিক্রেতার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন
চীনে সঠিক বিক্রেতা নির্বাচন করা সত্যিই অনেক কঠিন বিষয়। কেননা সঠিক
বিক্রেতা নির্বাচন করতে হলে আপনাকে তার সাথে অফলাইন বা অনলাইন এর মাধ্যমে
ভালো সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। যার ফলে আপনি বিক্রেতার ওপর বিশ্বাস রাখতে
ভরসা পান। চীনে অনেক বিক্রেতাই রয়েছে যারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য সরবরাহ ,
কিন্তু সকলেই মানসম্পন্ন এবং বিশ্বস্ত নয়। তাই আপনাকে তাদের সাথে মিশে সঠিক
বিক্রেতা খুঁজে বের করতে হবে।
যেমন:Alibaba,Global Source এবংMade -in-China এর মত অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোর
মাধ্যমে বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করতে সহজ হবে। বিক্রেতা নির্বাচন করার আগে
তাদের পণ্য, সরবরাহের সময়, এবং কাস্টমারের রিভিউ যাচাই করে নিতে হবে।
দেখতে হবে তাদের পন্যটা কেমন। অর্ডার কনফার্ম করার আগে স্যাম্পল এনে পণ্য এবং
পণ্যেরমান যাচাই করেন নিতে হবে। স্যাম্পল এর দাম এবং নিয়ে আসতে কুরিয়ার
মাধ্যমে যে খরচ হবে তা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে দিলে সাপ্লায়ার
কুরিয়ারে করে স্যাম্পল পাঠিয়ে দিবে। এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার
বিক্রেতা কেমন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করার মাধ্যম
চীন থেকে পণ্য আমদানির করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট আপনাকে প্রস্তুত
করে নিতে হবে। যাতে করে আপনি আপনার পণ্য নিয়ে বিপদে না পড়েন। প্রথমত আপনাকে
ইম্পোর্টার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট(IRC) থাকা অবশ্যক, এতে করে আপনি চীন
থেকে বাংলাদেশ আমদানি করার জন্য কোন প্রকার অসুবিধা না হয়। সঠিক সময়ে সঠিক
পণ্য আপনার বিক্রেতার কাছে হতে পেতে পারেন।
দ্বিতীয়ত প্রোফর্মা ইনভয়েস(PI) পন্যের পরিমাণ, আনুমানিক মূল্য, শর্তাবলী,
শিপিং খরচ এবং অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করা থাকে। এটি সাপ্লায়ার খুব সহজে
ক্রেতার কাছে সরবরাহ করে থাকে। এসব নিয়মাবলী মাধ্যমে সাপ্লাইয়ের কাছ থেকে
অন্য সরবরাহ করতে হবে এবং তা সঠিক নিয়ম অনুসারে হাতে পেয়ে ক্রেতার কাছে
সরবরাহ করতে হবে। এবং লেটার অফ ক্রেডিট (LC) ব্যাংকের মাধ্যমে পণ্যের অর্থ
পরিশোধনের নিশ্চয়তা হিসেবে এই নথি ব্যবহার করতে হবে। পরবর্তী সময়ে কোন
বিপদে পড়লে যেন এই নথি কাজে লাগে।
সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন করে শিপিং এর ব্যবস্থা
চীন থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য সঠিক শিপিং পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন
থেকে কিভাবে বাংলাদেশের পণ্য আনবেন তা ঠিক করে নেওয়া হয় এই শিপিং এর
মাধ্যমে। তাই শিপিং এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পণ্য পরিবহনের জন্য
সাধারণত দুইটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে: এয়ার কার্গো, সি কার্গো। এসব শিপিং এর
খরচ, সময় এবং নিরাপত্তা বিভিন্ন রকম। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে পণ্য চীন থেকে
বাংলাদেশ নিয়ে আসতে হবে। এয়ার কার্গোতে খরচ তুলনামূলক বেশি তবে এটা খুব
তাড়াতাড়ি আপনার কাছে পৌঁছে যাবে।
সাধারণত ৫-১০ দিনের মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব এয়ার কার্গোর মাধ্যমে। সাধারণত এ
পদ্ধতিতে ছোট ও উচ্চ মূল্যের পণ্য পরিবহনের জন্য উপযুক্ত বা ভালো। অন্যদিকে
সি কার্গোতে খরচ কম, কিন্তু সময় লাগে প্রায় এক মাস। সি কার্গো সাধারণত বড়
ও ভারী পণ্য পরিবহনের জন্য এ পদ্ধতি ভালো। তবে সি কার্গো ব্যবহার করা ভালো
কারণ এখানে খরচ কম। আমরা একটা ব্যবসা করব মুনাফা লাভের জন্য। যদি যাতায়াত
খরচ অনেক পড়ে যায় তাহলে লাভ আসবে কিভাবে? তাই সি কার্গো নির্বাচন করে শিপিং
করতে হবে।
আরো পড়ুন: ড্রপ শিপিং বিজনেস কিভাবে করবেন জানুন
কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এর ব্যবস্থা থাকা
বাংলাদেশের মানুষ চীনের প্রোডাক্ট অনেক পছন্দ করে তাই তো চীনের প্রোডাক্ট
বাংলাদেশে আমদানি করে নিয়ে আসা হয়। এর জন্য কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এর
ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। পণ্য বাংলাদেশ বন্দরে পৌঁছানোর পর কাস্টম কেয়ার
প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এর সময় কাস্টমস ডিউটি,
ট্যাক্স,এবং অন্যান্য ফ্রি পরিশোধ করতে হবে। পণ্য আমদানির সমস্ত ডকুমেন্ট স
এবং চালান উপস্থিত করতে হবে। যাতে করে পণ্যটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে
পরীক্ষা ও যাচাইয়ের পর মুক্তি পায়।
এবং দ্রুত ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করতে হলে সমস্ত ডকুমেন্ট সঠিক এবং সম্পূর্ণ
হওয়া জরুরী কেননা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে সি এন্ড এফ এজেন্টের
সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। যাতে করে আপনি আপনার পণ্যটি খুব দ্রুত আপনার হাতে
পেয়ে যান। কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স করা পণ্য সহজেই বিক্রির উপযোগ্য হয়ে ওঠে।
আর আপনি তাড়াতাড়ি কাস্টমারের কাছে তাই পৌঁছাতে পারেন। এজন্য আপনাকে দ্রুত
কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা করতে হবে।
এয়ারপোর্ট বা সি পোর্ট থেকে পণ্য সংগ্রহ
চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্য কিভাবে আপনার কাছে পাবেন তা নিয়ে আলোচনা। পণ্য
কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এর পর, পরবর্তী ধাপ হল এয়ারপোর্ট বা সি পোর্ট থেকে
পণ্য সংগ্রহ করা। পণ্য সংগ্রহের জন্য আপনাকে এয়ারপোর্ট বা সি পোর্ট যেতে
হবে। প্রথমে পোর্ট এর অফিসিয়াল কাস্টম কেয়ারিং এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে
হবে এবং তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তাই পোর্টের নির্দিষ্ট স্থানে পণ্য
সংগ্রহের জন্য একটি নির্ধারিত সময়সীমা থাকতে পারে, তাই সময়মতো উপস্থিত
থাকতে হবে।
পণ্য সংগ্রহ করার পর আপনার গুদাম বা বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্দেশ্যেই স্থানীয়
পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠাতে হবে। আপনি রাখবা অন্যান্য পরিবহনের মাধ্যমে
পরিবহন করতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই আগে হতে আপনার গুদাম ঠিক করে রাখতে হবে
যাতে করে আপনি সহজে পোর্ট হতে পণ্য সরবরাহ করে আপনার গুদামে নিয়ে যেতে
পারেন। আশা করি আপনি কিভাবে এয়ারপোর্ট বা সিপোর্ট থেকে পণ্য সংগ্রহ করবেন তা
বুঝতে পেরেছেন।
চীন থেকে পণ্যের মূল্য কিভাবে করব
যেকোনো ব্যবসায় লাভ ক্ষতি দুটোই আছে, তবে আপনি যদি ব্যবসায় লাভ করতে চান
তাহলে আপনাকে কেনার সময় লাভ করতে হবে। যদি আপনি কেনার সময় লাভ করতে পারেন
তাহলে আপনি আপনার অন্য প্রতিযোগীদের লাভ করতে পারবে। মনে করেন কেনার সময় লাভ
করতে বোঝায় যেকোনটি আপনার প্রতিযোগী বিক্রেতার থেকে ৫০ টাকায় কিনেছে আর
সেটাকে আপনি যদি ৪০ বা ৪৫ টাকায় কিনতে পারেন তাহলে আপনি তার চেয়ে অনেক
এগিয়ে গেলেন
চীন থেকে আমদানি করার আগে চীনা বিক্রেতাদের সাথে প্রাইজ নেগোসিয়েশন করার
সময় কিছু কৌশল মেনে চললে আপনি কম খরচে কিনে বেশি লাভ করতে পারেন। এর সাথে
সাথে আপনাকে সাপ্লায়ারের সাথে ভালো সম্পর্ক ও রাখতে হবে। চীনা বিক্রেতার
সাথে প্রথমবার যোগাযোগের সময় আপনাকে কৌশলী হতে হবে, আপনি এমন ভাবে অন্যের
দাম এবং শিপিং খরচ সম্পর্কে জানতে চাইবেন যে তারা বুঝবে আপনি পণ্য টি কেনার
বিষয়ে সিরিয়াস।
প্রথমেই আপনাকে বাজার নিয়ে কিছুটা গবেষণা করতে হবে। যেমন একই পণ্যের দাম
একাধিক সাপ্লাইয়ের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। যাতে করে বিক্রেতাদের সাথে কথা
বললে আপনি আপনার পণ্যের মূল্য কিছুটা কমাতে পারেন। আর আপনি যদি কেনার সময়
আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ে কম দামে কিনতে পারেন তাহলে সেটা আপনি কিছু কম
দামে বাজারে ছাড়তে পারবেন। আর কম দাম পেলে আপনার পণ্যের সুনাম একবার চারদিকে
পৌঁছে গেলে আর কাস্টমার অভাব হবে না।
আরো পড়ুন: ঘরে বসে ডিজিটাল মার্কেটিং করে আয় করুন
চীন থেকে পণ্য নিয়ে আসার বীমা খরচ
বাইরে থেকে পণ্য নিয়ে আসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কেননা নিরাপত্তার
জন্য বীমা করতে হয়। এই বীমা আপনার ক্ষতিপূরণ করতে পারে। তাই যারা বাইরে থেকে
পন্য আমদানি করার চিন্তাভাবনা করবেন তারা অবশ্যই বীমা করবেন। যাতে করে আপনার
দুশ্চিন্তা কম হয়। বীমার খরচ সাধারণত পন্যের মূল্যের ০.৫%-২% পর্যন্ত হতে
পারে। একবার বীমা করা হলে পরিবহনের সময় অন্য যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে আপনি
সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাবেন।
উদাহরণ স্বরূপ: মনে করেন আপনি চীন থেকে পণ্য ক্রয় করলেন এবং সেটি শিপিং এর
মাধ্যমে আপনার কাছে আসবে, আর আপনার যদি বীমা করা না থাকে তাহলে সেটি যদি
ভালোভাবে আপনার কাছে পৌঁছে তাহলে তো ভালো আর না হলে যদি সি পোর্ট বা
এয়ারপোর্টের মাঝ রাস্তায় কোন ক্ষতি হলো তাহলে আপনি এখানে একটা বড় ক্ষতির
সম্মুখীন হবেন। এজন্যই বীমা করা অবশ্যই, কেননা বীমা থাকলে আপনি আপনার
ক্ষতিপূরণ পেয়ে যেতেন। তাই বাইরে বিজনেস করার পরিকল্পনা করলে অবশ্যই বীমা
খরচ মাথায় রাখবেন।
স্থানীয় পরিবহন খরচ কেমন হবে
বাংলাদেশের বন্দরে পৌঁছানোর পর পণ্য গুদাম বা বিক্রয় কেন্দ্রে পর্যন্ত নিয়ে
যাওয়ার জন্য স্থানীয় পরিবহন খরচ যুক্ত করতে হবে। এই খরচটি নির্ভর করবে
দুরুত্বের ওপর, অন্যের পরিমাণ, এবং পরিবহনের মাধ্যমের ওপর। কারণ এসব খরচ শুধু
আপনার উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে পণ্য নিয়ে আসতে এবং আপনার গুদামে পৌঁছাতে সে
সমস্ত খরচ গুলো হবে সব গুলো আপনার স্থানীয় খরচ হিসেবে গণ্য হবে।
চীন থেকে পণ্য আমদানির খরচ পরিবর্তনশীল, কারণ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম, চিপিং
খরচ এবং কাস্টমস ডিউটির হার পরিবর্তন হতেই থাকে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মুদ্রার
বিনিময় হার পরিবর্তনশীল। এছাড়া বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেনের পরিস্থিতি, এবং
শুল্ক নীতি পরিবর্তনের ফলে খরচ বৃদ্ধি বা হ্রাস হতেই থাকে। তাই আমদানির
পরিকল্পনা করার সময় সব সময় বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং খরচের একটি আপডেট
ধারণা রাখা জরুরী। তাহলে আপনি সহজে লাভবান হতে পারবেন।
চীন থেকে পণ্য আমদানির জন্য বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খোঁজা
চীন থেকে আমদানি ব্যবসায় বিদেশি সফটওয়্যার খুঁজে বের করা সহজ কাজ না। বিশেষ
করে ভালো সাপ্লায়ার খুঁজে বের করা অনেক কঠিন বিষয়। তবে যারা নতুন তাদের
জন্য ভালো সাপ্লায়ার পাওয়া কষ্টকর, আস্তে আস্তে তারা চিনে ফেলবে এবং ভালো
সাপ্লায়ার খুঁজে পাবে। তিন থেকে পণ্য আমদানি করার জন্য উপযুক্ত সফটওয়্যার
খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনাকে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করতে হবে। যেমন:
Alibaba, Global Source এবং Made-in -China ব্যবহার করে চীনা সাপ্লায় দের
সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এ প্লাটফর্ম গুলোতে আপনি বিভিন্ন ধরনের পণ্য খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি
সাপ্লায়ার দের সাথে পণ্য নিয়ে সরাসরি whatsapp এর মাধ্যমে ভিডিও কলে দাম
এবং অন্যান্য নিয়ম কানুন জেনে নিতে পারবেন। এছাড়াও চীনের অবস্থানরত কাউকে
স্থানীয় এজেন্ট বা বোকারী হিসেবে নিয়োগ করে দিতে পারেন। স্থানীয় এজেন্টরা
চীনের বাজারে অভিজ্ঞ এবং তারা আপনাকে সঠিক সাপ্লায়ার খুজে পেতে, মূল্য
নিয়ে আলোচনা করতে, এবং আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করতে পারবে।
এছাড়া তারা শিপিং, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজগুলো
করতে আপনাকে সাহায্য করবে।
আরো পড়ুন: চীন থেকে পণ্য আমদানির খরচ সম্পর্কে জানুন
পেমেন্ট প্রদান এবং চালান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা
চীন থেকে পণ্য বিক্রেতার থেকে ক্রয় করে সাপ্লায়ারের সাথে সবকিছু ঠিক হওয়ার
পর আপনাকে পেমেন্ট প্রদান করতে হবে। আপনি বিভিন্নভাবে পেমেন্ট করতে পারেন,
যদি মনে করেন আপনি অল্প পরিমাণ পণ্য ক্রয় করেছেন সে ক্ষেত্রে আপনি ডুয়েল
কারেন্সি সাপোর্ট করে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবেন। আর
যদি বড় আকারে পণ্য ক্রয় করে থাকেন বা আমদানি করলে আপনাকে ব্যাংকের মাধ্যমে
এলসি করে পেমেন্ট করতে হবে।
এক্ষেত্রে ব্যাংকে গিয়ে সকল ডকুমেন্টস দিয়ে এলসি করতে হবে। এলসি করার পর
আমদানি প্রক্রিয়া শেষ হলে ব্যাংক পেমেন্ট সম্পন্ন করে।এছাড়াও পেমেন্ট
সম্পন্ন করার পর পণ্য আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।CIF (Cost, Insurance
& Freight) এটি এমন চুক্তি যেখানে সাপ্লায়ার পণ্য উৎপাদন করবে, প্যাকিং
করবে , চীনের বন্দর থেকে জাহাজে পণ্য পৌঁছে দিবে, শিপমেন্ট ইন্স্যুরেন্স ও
করে দিবে।
জাহাজে উঠানোর পর থেকে ঝুঁকি আপনার, তবে যদি আপনার বীমা করা থাকে তাহলে আপনি
অবশ্যই ভালোভাবে পণ্য পাবেন। এরপর আপনি কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিয়ে পণ্য
গ্রহণ করবেন।FOB(Free on Board) ভিডিও সাধারণত সাপ্লাইয়ের সাথে চুক্তি। তবে
আপনি যদি নতুন হন তাহলে CIF প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন।
শেষ কথা: চীনের প্রোডাক্ট বাংলাদেশের আমদানি করার প্রক্রিয়া স্টেপ বাই স্টেপ
বাংলাদেশে চীন থেকে আমদানি করার পণ্য সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি
যদি উপরের স্টেপ বাই স্টেপ গাইড লাইন অনুসরণ করেন তাহলে এবং খুব সহজেই চীন
থেকে পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে এসে ব্যবসা করতে পারবেন। তবে আমদানি ব্যবসা শুরু
করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে সবকিছু যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। চীনে যে দামে
কিনছেন সেটা বাংলাদেশের নিয়ে আসার পর তার সাথে খরচ যোগ করে আবার সেটা বিক্রি
করে আপনার লাভ কেমন থাকছে , সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
বাংলাদেশের মানুষ চীনের প্রোডাক্ট অনেক পছন্দ করে। তাইতো বাংলাদেশে চীন থেকে
আমদানি করার আগ্রহ প্রকাশ করে। আমার জানামতে আমাদের কয়েকজন ফ্রেন্ড সার্কেল
চীনের প্রোডাক্ট বাংলাদেশে আমদানি করার পর তারা ভালই লাভ করেছে। এখন বর্তমানে
তারা বাংলাদেশের একটা ভালো অবস্থান করছে। তাই বাংলাদেশে চীন থেকে আমদানি করার
উপরের স্টেপ বাই স্টেপ গাইড লাইনটি অনুসরণ করলে আপনি খুব সহজেই চীন ৎথেকে
দেশে এনে ব্যবসা করতে পারবেন।
গ্রোমার্কেটিং আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url